Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

Wednesday, November 30, 2016

নারীদের জরায়ু নিচের দিকে নেমে আসার কারণ কী?

নারীদের জরায়ু সংক্রান্ত রোগসমূহের মধ্যে "জরায়ু নেমে আসার" সমস্যাটি অন্যতম । দেখা যায়, এই রোগটি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একটি বা একাধিক সন্তান জন্মের জন্য হয়ে থাকে । এক্ষেত্রে জরায়ু প্রায় সবটাই যোনির বাহিরে ঝুলে পড়ে । বাইমেনুয়াল পরীক্ষাতে একটি আঙ্গুল প্রবেশ করালেই এই রোগ অনেকটা বুঝতে পারা যায় ।
নারীদের জরায়ু নেমে আসার কারণ :
বিভিন্ন কারণে জরায়ু নেমে আসতে পারে যথা :
- জন্মগত কারণে এই রোগ দেখা দিতে পারে এবং এটি যোনির আগমনের সঙ্গেই বুঝতে পারা যায় ।
- কখনো কখনো ব্লাডার নিচের দিকে নেমে আসে বলে তার সাথে জরায়ুও নেমে আসে । একে বলে Cystoceled.
- আবার কখনো রেক্টাম নিচের দিকে নেমে আসে বলে তার সাথে জরায়ুও নেমে আসতে পারে । একে বলে Rectocele.
- কোন কোন ক্ষেত্রে অধিক সন্তান ধারণের ফলে জননেন্দ্রিয়ের বিভিন্ন অংশ ঢিলে হয়ে যায় এর ফলে জরায়ুর লিগামেন্টগুলি ঢিলে হয়ে যায় এবং নিচের দিকে নেমে আসে ।
- জরায়ুর স্থানচ্যুতি হলে এই রোগ দেখা দিতে পারে। কোনো কোন সময় দেখা যায় যেসব নারীরা অনবরত আমাশয়, উদরাময় ইত্যাদি রোগে ভুগে থাকলেও তাদের এই রোগটি প্রকাশ পেতে পারে।
নারীদের জরায়ু নেমে আসার লক্ষণ :
এই রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর কোমরে এবং পিঠে ব্যথা হয়। অনেক সময় প্রদাহ ভাবের সৃষ্টি হয় এবং প্রদাহ বেশি হলে জ্বরও আসতে পারে। যদি জরায়ু অধিক পরিমাণ নেমে আসে তবে রোগীর পায়খানা প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আবার অনেক সময় পেলভিক ক্যাভিটিতে সেপটিক হতে পারে এবং ধীরে ধীরে তা ক্যান্সারের রূপ নিতে পারে। জরায়ু অধিক পরিমাণ নিচে নেমে আসলে যৌন মিলনে অসুবিধার সৃষ্টি হতে পারে। জরায়ু কতটা পরিমাণ নেমে আসে তার একটা মোটামুটি মাত্রা রয়েছে এবং সেই মাত্রা অনুসারে এই রোগ লক্ষণটিকে তিনভাবে ভাগ করা যায় যথা :
১. প্রথম ডিগ্রী : সামান্য নেমে আসা অর্থাৎ ১/৪'' পর্যন্ত নেমে আসা।
২. দ্বিতীয় ডিগ্রী : অনেকটা বেশি নেমে আসা অর্থাৎ ১" পর্যন্ত নেমে আসা।
৩. তৃতীয় ডিগ্রী : প্রায় সবটাই নেমে আসা অর্থাৎ ২"-২.১/৪" পর্যন্ত নেমে আসা অথবা তার চেয়ে বেশি নেমে আসা।
নারীদের জরায়ু নেমে আসার সমস্যায় তৃতীয় ডিগ্রীই মারাত্মক। তবে অন্য দুটি ক্ষেত্রেও নারীরা বেশ জটিলতায় ভুগে থাকেন। এই রোগের যেকোনো অবস্থায় যথাযথ হোমিও ট্রিটমেন্ট নিলে সমস্যাটি সমূলে নির্মূল হয়ে যায়। তবে রোগ ধরা পড়ার সাথে সাথেই সময় নষ্ট না করে অভিজ্ঞ একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত। ধন্যবাদ

Post Top Ad

Your Ad Spot

Pages